২ এপ্রি, ২০১৪

কাশীনাথ গুঁই

2 কমেন্টস্
আমাদের দু’ চার কথা
কাশীনাথ গুঁই


কেটেই গেল শীতের জড়তা। বাসন্তী বাতাস আসতে খানিক দেরী হল এবার। তাতে কি আর ফুল ফোটা আটকায় - সে ফুটেছে আপন খেয়ালেই।ভোটের দামামা আর চিরন্তন নাটকেও সেই ট্র্যাডিশন সমানেই চলেছে। চলেছে অবাধ সামাজিক অপরাধ - সেও আপন গতিতেই-তার মাঝেই এল 'আন্তর্জাতিক নারীদিবস'। গাল ফুলিয়ে এই একটা দিনেই নারিমঙ্গলের কত বুলি কাঁপালো সভাঘর,ঈথার। সেদিনে কি ঘটেনি কোথাও নির্যাতন, কে রাখে তার হিসেব। তবুও দিনপালনের এই খেলা চলবেই- সারা মাস ধরে,বছর ধরে ঢক্কানিনাদে যেন ভুলে থাকা ছাড়া সমস্যা মেটানোর পথই নেই!

প্রকৃতি এসবের ধার ধারেনা তাই তার লীলা চলমান। তাই আবীরে রাঙাবো তোমা সবে - মনের মাতোয়ারা হবার আড়ালেই জমে উঠবে আরেক খেলাওরব - নিশা অবসানে পত্রিকার কলমে বা হেডলাইনে গড়ব অন্য ইতিহাস।

না, বড়ই নেতিবাচক হয়ে গেল এবারের কলম। কিন্তু চোখ ঢেকেও যে কান্নার শব্দ শুনি তা এড়াই কিভাবে!

চলুন সেই পথটাই খুঁজি আবার সুস্থ সৃষ্টির অবয়বে। যা নজর আর মনকে মুক্তি দেবে আমাদের এই অন্তর্জাল পত্রিকার সুস্থ সমাজের স্বপ্ন দেখার কারিগরদের কলমে উদ্ভাসিত।

ভাল থাকুন,ভাল রাখার শপথে মেতে উঠুন আবিরের সুগন্ধে।



আপনাদের ভালবাসা ধন্য -

কাশীনাথ গুঁই।

সৌমিত্র চক্রবর্তী

4 কমেন্টস্
অতিথি সম্পাদকের কলম
সৌমিত্র চক্রবর্তী


আয় বসন্ত, বোস বসন্ত, থাক বসন্ত আমার ঘরে।

যাই যাই করেও বারবার ফিরে তাকিয়ে, নাকের জলে-চোখের জলে পরিপার্শ্ব ভিজিয়ে, ভয়ানক অনিচ্ছায় শীত কিছুতেই যেতেই চাইছিল না। আর বসন্তও তার লাজুক স্বভাবের পেটেন্ট নেওয়া লালিত্য ছেড়ে ঠেলেঠুলে শীতকে তাড়িয়েও ঢুকে তার নির্ধারিত সময়ে মৌরসীপাট্টা গড়ে তুলতে পারছিল না।

তবুও সব কিছুই ক্ষণস্থায়ী, যেতে হয় সবাইকেই একদিন। ব্রহ্মান্ডের এই সারসত্য মেনে নিয়েই টুক করে মিষ্টি রোদটা লাফিয়ে পড়লো ধানমাঠের ভিজে ভিজে আলে, শহরের রোমান্টিক পাইথন রঙা রাজপথের পিঠে। আর অমনি তাকে খপ করে ধরে ওই উঁচু শপিংমলের আয়না জানলা ঠিকরে ছুঁড়ে ফেললো মাথা নিচু করে হেঁটে যাওয়া সারা বছর কুঁকড়ে মুকড়ে থাকা মানুষগুলোর মাঝে।

কান্ড দেখে সদ্য ঘুম ভাঙা পলাশ আর কৃষ্ণচূড়া ফিকফিক করে মুচকি হেসে বাসন্তিক শো এর জন্যে তৈরী হতে শুরু করলো। উছলে লাফিয়ে উঠলো ছোট্ট ফ্ল্যাটবাড়ির ক্ষুদের দল, মাটির বাড়ির ক্ষুদের দল, সামনের সানাই এর প্রতীক্ষায় থাকা লাল-সবুজ জীবন্ত বসন্তের দল। ওদের যে আপাত পরীক্ষা শেষ।

খুব বড়দের ধারেকাছে সেই রোদ্দুর ঘেঁষে না। ওদের যে ইচ্ছে করলেই, দেখা হলেই ভ্যালেন্টাইনস্ ডে। ওদের যে বসন্তের উচ্ছলতার মাঝেও হিসেব নিকেশ শেষ হয়না।

তাই বলে কি রোদ্দুরের মনখারাপ হয়না? হয় বৈকি, তারও মনখারাপ হয়। যে ছেলেটা কোনোদিন নিজের খালি গা ঢাকতে পারেনি একটাও নতুন জামায়, যে মেয়েটা শুধুমাত্র একটু বিশ্বাসের ভুলে বিক্ষত শরীর নিয়ে মৃত্যুর সাথে লড়াই করে, যে লোকটার দাদন শোধ হয়নি বলে নবান্ন হয়নি কিম্বা অপ্রতিরোধ্য ক্ষয় নিয়েও যাকে রোজকার বোঝা মাথায় তুলে টালমাটাল পায়ে এগিয়ে যেতে হয়, তাদের জন্যে চিকচিক করে করে তারও চোখের কোল।

তখন আকাশে কালো হয়ে আসে মেঘ। রাগে নিস্ পিস্ করতে করতে একসময় হা হা শব্দে হেসে উঠে পাগলের মত মাথা নাড়তে শুরু করে সে। আর ওমনি শুরু হয় কালবৈশাখী।

ব্যাস! শুধু এই নাচাওয়া টুকু বাদ দিলেই স্যাঁতস্যাঁতে ছায়া ছায়া অন্ধকার উধাও। ভালোলাগা জড়িয়ে একে একে আসে রঙবাহার হোলি, উত্তেজনার চড়ক। আর ভালোলাগার মানুষ বা মানুষীর আড়চোখের চাউনি যদি মিশে যায় তারমাঝে! তাহলে পৃথিবী শান্ত হয় নিস্পাপ অনুরাগে।

প্রেরণার সব পাঠক বন্ধুদের ফাগুয়া ভালোলাগা-ভালোবাসা-শুভেচ্ছা।

ভালো থাকুন সবাই বাসন্তী রঙে।