অনুগল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অনুগল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

২৩ মে, ২০১৪

ব্রতীন বসু

0 কমেন্টস্
এক কবিতার দুঃখ
ব্রতীন বসু



এক কবিতা অনেক ভাবনাচিন্তা করে মনস্থির করলো কবির সাথে দেখা করবে,তাকে একবার যেতেই হবে,অনেক দেরি হয়ে গেছে,এখন না গেলে হয়তো আর খুঁজেই পাওয়া যাবে না ।

একশো বছর পেরিয়ে গেছে কবি ওকে ফেলে চলে গেছেন স্বর্গলোকে,কিন্তু মহাকবি,সবাই চেনে, খুঁজে নিতে অসুবিধে হল না । রাস্তায় রবীন্দ্রনাথের সাথে দেখা হল ।

পেন্নাম গুরুদেব, আমার কবি কোথায় আছে বলে দিতে পারেন ।

তুমি কোন কবিতা, তোমার নাম কি ?

আজ্ঞে, আমাকে আপনি চিনবেন না,পলাশীর যুদ্ধ আমার সহোদর ।

ও নবীন সেন কে খুঁজছ, ওইদিকে যাও পেয়ে যাবে । গিয়ে দেখি কবি মেঘের বুকে গোলাপ গাছ

লাগাচ্ছেন ।

নমস্কার কবি,আপনাকে সামনে কোনদিন আর দেখতে পাবো ভাবিনি, কি যে আনন্দ হচ্ছে আমার,কি করে যে বোঝাই আপনাকে ?

আহ, বিরক্ত কর না,দেখছ না, মেঘদের কষ্ট হয়, আজকাল মেঘলা দিনে নতুন প্রেমিক প্রেমিকাদের মনে আর কাঁটা ফোটে না, তাই একটা ব্যবস্থা করছি,পরে এসো ।

আমাকে আপনি চিনতে পারলেন না?

কে তুমি, কবি মন দিয়ে গাছ লাগাতে লাগলেন, ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলেন ও না ।

আমি আপনার সৃষ্টি , আমাকে কেউ পড়ে না,আমি,আমি,আমি খুব ক্লান্ত,আমাকে মুক্তি দিন ।

কবি ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলেন । সারা গায়ে সব কাটা, শুধু একটা আমি শব্দ কাটা হয়নি, সেই আমিত্বের জ্বালা, একাকীত্ব,গর্ব, যেন এক সংঘর্ষের মৌচাক ।

কবি সযত্নে গোলাপ পাতা দিয়ে মুছে দিলেন আমি শব্দটি ।

আজ থেকে তুমি আমার ভেতর আবার ফিরে এলে,চল এক সাথে মেঘের দুঃখ ঘোচাই ।

২ এপ্রি, ২০১৪

মনোজিৎ দত্ত

0 কমেন্টস্
(অনুগল্প)

ছেলে
মনোজিৎ দত্ত



এ নিয়ে তিন নম্বর। তিনটাই মেয়ে। প্রতিবারই মায়ের কপালে অশান্তি ... দূর্ভোগ। গালিগালাজ। নবাগতা অযত্নে - অবহেলায় ... মায়ের শুকনো বুকে যতটা দুধ আছে - তা দিয়েই বড় হয়ে উঠা। অপুষ্টি চোখে মুখে। ছেলে ছেলে করে তিন তিনটি মেয়েকে ন্যুনতম সময়ের ফারাকে পেটে ধরে মায়ের অবস্থাও একই রকম। বাবার তবুও নিদেন পক্ষে একটা ছেলে চাই। তৃতীয় বারের পর দুবছরের মাথায় আবার একজন এল পেটে। আসা মাত্রই চেঁচামিচি - হুঙ্কার শুরু। এবার ছেলে না হলে রক্ষে নেই। ডাক্তার বাবু যে বারবারই বুঝিয়ে আসছেন -... ছেলে-মেয়ে সমান... কিংবা লিঙ্গ নির্ধারণে ক্রোমোজোমের খেলায় পুরুষরাই দায়ী ... বাবা তা মানতে রাজী নন। শেষ চেষ্টা ... বাবাকে জিততেই হবে।


অবশেষে এল সেই দিন। অপেক্ষা আর কিছুক্ষণের। মার কাছে প্রসব বেদনার চেয়েও ভারী হয়ে উঠে বাবার ফরমান - এবারে রক্ষে নেই। ছেলেই হল। মার মুখে স্বস্তির নিঃশ্বাস। হাসি উবে গেছে কবে ... তবুও স্বামীর একটু হাসি দেখবেন। যত্নের অভাব হল না - ছেলের। এবারে অ -আ-ক-খ নয় ... এ-বি-সি-ডি ... করে করে .. এম. টেক্ ছেলে এখন আমেরিকায় ... মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে ... স্বপ্ন সফলের দৌড়ে ছক্কা মারছে।


বড় মেয়েটা ভালবাসার টানে ঘর ছেড়ে পালিয়েছে। মা ওপারে গেছেন অনেক আগেই। ছেলে কয়টা টাকা পাঠিয়ে বলেছিল ... টেক ক্যায়ার। মেয়েরা কেঊ কলেজের চৌকাঠ দেখেনি। পেনশনের টাকা বাবার ওষুধের তলেই যায়। চালের জন্য মেয়ে দুটির বাড়ি বাড়ি অ -আ-ক-খ বিক্রী করতে হয়। মাঝে মাঝে ছেলে ক’টা টাকা পাঠিয়ে ম্যাসেজ করে ... টেক ক্যায়ার।।

১ অক্টো, ২০১৩

অনুগল্প - রাজেশচন্দ্র দেবনাথ

0 কমেন্টস্
অভিমান
রাজেশচন্দ্র দেবনাথ


রতন টাকাটা চুরি করলো । তুমি কিছু বলবে না ।
-কি বলবো ? নিয়েছে তো তর ভাই । ভাইয়ের টাকা ভাই নিয়েছে । এতে বলার কি আছে ।
-বা । জিজ্ঞেস না করে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে গেল । মদ গাঁজা খেয়ে অতগুলো টাকা উড়িয়ে দেবে । টাকাগুলো যে রান্নাঘরটা মেরামত করবার জন্য বেশি সুদে এনেছি । সে দিকে খেয়াল আছে ।
-আ বেশি বকবক করিস না । এখান থেকে সরে পর ।
সুশীল আর কথা বাড়াল না । বুঝল এ সব কথা মাকে বলে লাভ নেই । সে দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে রাতের অন্ধকারে মিলিয়ে গেলো ।
ঘড়ির কাটায় তখন ১০ টা । সুশীলের ছোট বোন রত্না বললো , মা তুমি বিনা দোষে দাদাকে বকলে । রতনের দোষ । অতগুলো টাকা চুরি করলো ।তুমি কিছু বললে না ।
-কি বলবো বল । সুশীল শান্ত ছেলে ।মা বকলে কিছু বলবে না । চুপ করে থাকবে । আর রতন জানোয়ারটা কে কিছু বললে তো বাড়িতে আগুন লাগিয়ে ছাড়বে ।
-তাই বলে সবসময় ...

ভোরের আলো চারধারে ছড়িয়ে পড়েছে ।সুশীল রাতে বাড়ি ফেরেনি । সুশীলের অপেক্ষায় মা সারারাত উঠোনে পায়চারি করে কাটিয়ে দেয় ।সারা মুখে চিন্তার ছাপ । ছেলেটা না খেয়ে সারারাত কোথায় ছিল এসব চিন্তা তাকে জর্জরিত করছিল । এমন সময় সুশীলের বন্ধু শৈলেন দ্রুত দৌড়ে বাড়িতে ঢুকল । হাঁফাতে হাঁফাতে বললো । মাসিমা দ্রুত আমবাগানে চলুন ।
কেন,হঠাৎ আমবাগানে । কি হল ।
সুশীল আমবাগানে ফাঁসি দিয়েছে।