অনুবাদ কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অনুবাদ কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

৩০ ডিসে, ২০১৩

অনুবাদ কবিতা - অভিলাষা দাশগুপ্ত আদক

0 কমেন্টস্
অনুবাদ কবিতা
অভিলাষা দাশগুপ্ত আদক


'হাইকু' পৃথিবীর সংক্ষিপ্ততম কাব্যরূপ। একবচন ‘হাইকি’ থেকেই বহুবচন ‘হাইকু’ এসেছে। ‘হাইকু’ জাপানী ভাষায় কবিতা লেখার একটি পদ্ধতি যা বিশেষ একটি রীতিকে মেনে লেখা হয়ে থাকে। তিনটি পংক্তিতে ৫-৭-৫ বিন্যাসে ১৭টি মাত্রায় এই কবিতাগুলো লেখা হয় । অর্থাৎ প্রথম লাইনে ৫টি, দ্বিতীয় লাইনে ৭টি আর শেষের লাইনে ৫টি সিলেবল নিয়ে মোট ১৭ সিলেবালে হাইকু রচিত হয়।

জাপানী কবি বোশা কাওয়াবাতা (1897-1941) –এর ছয়টি হাইকুর বঙ্গানুবাদ

(১)
ধীরে নিশব্দে
তুষার ঝরে যাচ্ছে
অদ্ভুত ছন্দে…

(২)
শিশিরবিন্দু
পাথরে ঝকমকানো
নিটোল সিন্ধু…

(৩)
লিখি,দেখি,মুছি,
অবশেষে খুঁজে পাই
গোটা কবিতা…

(৪)
ফুলের মত
আমরা প্রেমে ফুটি,
ঝরি নিঃশর্ত…

(৫)
হিমবৃষ্টিতে
ছাতা মাথায় কে যায়
লোক হাসাতে…

(৬)
জোনাকদানা
ঝিকিয়ে জ্বললেও
আলো দেয়না…

উৎস:
· Paintbrush: A Journal of Poetry, Translation and Letters(Spring&Autumn, 1983 issue).

২৯ অক্টো, ২০১৩

অনুবাদ কবিতা - মালঞ্চ দাশগুপ্ত

0 কমেন্টস্
অনুবাদ

মূল কবিতা :
Manawydan’s Glass Door (d’après David Jones, 1931)

মানাউদানের শার্সি

অনুবাদ : মালঞ্চ দাশগুপ্ত


পৃথিবীর এ প্রান্ত শান্ত, নির্বিকার,যেন ঘটেনি কিছুই,
তাই ভাঁজ করে রাখা কোটের মত
অলস সময়ও যেন শান্তিতে ভাঁজ হয়ে পড়ে আছে,
সুযোগের অপেক্ষায়।

কাঁচের দরজার ওপাশে দৃশ্যমান অশান্ত সমুদ্র,
সূর্য্যের আলোকে প্রতিফলিত করছে অনন্তের সন্ধানে,
অস্বচ্ছ দেওয়ালে বাঁধা পেয়ে ঝলমলাচ্ছে সে প্রতিবিম্ব,
তেমনি শান্তির খোঁজে ভ্রাম্যমান আমার দৃষ্টিও মাথা কুটে মরে
গারদের বদ্ধ প্রাকার আর অভয়ারণ্যের মুক্ত প্রান্তরে।

হাতলবিহীন কাপে যেমন কিনারা নেই,
সমুদ্রে ভাসমান জাহাজে নেই যান্ত্রিক কোলাহল,
তেমনি নীল দুঃখবিলাসে আর্দ্র আমার জীবনখাতাতেও
শান্তির লেশমাত্র নেই।



১৪ মে, ২০১৩

অনুবাদ কবিতা - কৌশিক ভাদুড়ি

0 কমেন্টস্
অংধারিবিজে 

দ্রোহ বাক্য
রাজেন্দ্র কিশোর পান্ডা

অংধার কর
অংধার কর
যিএ বি উদিছ সহল বুড় হো : সহল বুড়
অংধার কর
আখি নাক কান তুণ্ডর দুআর : সেতিকি খোল
সেতিকি খোল
রাণী রক্ষী আউ উআস সকল : নিদরে ভোল
এই ত বেল
সাদা বেশ সাজি রাজন আকুল : অংধার কর
আরম্ভ কর
ঝিএ কেলি করি হুলহুলি দিঅ : আরম্ভ কর
কর লো কর
বুঢ়ে হাত টেকি জয় জয় বোল : আহুরি জোর
আহুরি জোর
কুড়িআরে পিঅ পড়িআরে নাচ : আরম্ভ কর
হলা কমর
কালিঠু উপাস আজি অছি ভোজি : এউড়ি মার
এউড়ি মার
বঢ়েই কমার মহাকলাকার : সমান গঢ়
সমান গঢ়
সবু দিঅঁ মুহেঁ ছামুঙ্ক চেহেরা : সমান গঢ়
সমান গঢ়
হস ইষিকার প্রণবর স্বর : সংচার কর
প্রচার কর
প্রাণী ও পথর অণু অসীমর : সংভোগ কর
ভিআণ কর
নিজ পরিচয় দেবাযাএ রাজা : অপেক্ষা কর
অচিহ্না কর
পরিচয় পাই চেতি ও চমকি : পূজন কর
পারণা কর
মেষ শাবকটি রখিথাঅ শেষে : বলি ভোগর
বলি ভোগর
সাদা বেশ সাজি রাজন আকুল : অংধার কর
আরম্ভ কর
অংধার কর
আরম্ভ কর



গুপ্ত চারণ

অনুবাদক - কৌশিক ভাদুড়ি


আঁধার কর
আঁধার কর
যেই আসছ উদয়ের পথে শীঘ্র ডোবো হে: শীঘ্র ডোবো
আঁধার কর
চোখ নাক কান জিভের দুয়ার : স্বল্প খোল
স্বল্প খোল

রাণী রক্ষী আর খাস মহল : বেঘোরে ঘুমোও
এই তো সময়
সাদা বেশে সেজে রাজন আকুল : আঁধার কর
আরম্ভ কর

বালারা কেলি কর উলুধ্বনি দাও : আরম্ভ কর
কর লো কর
বুড়োরা হাত তুলে জয় জয় বল : আরো জোরে
আরও জোরে

কুঁড়েতে পান করে প্রান্তরে নাচ : আরম্ভ কর
হেলাও কোমর
কাল থেকে উপোস আজ আছে ভোজ : ঢেকুর তোলো
ঢেকুর তোলো

ছুতোর কামার মহাকলাকার : সামগ্রী গড়
সামগ্রী গড়
সব দেবমুখে আজ উদ্ভাস : সামগ্রী গড়
সামগ্রী গড়

হাসি কল্লোল প্রণবের স্বর : সঞ্চার কর
প্রচার কর
প্রাণী ও পাথর অণু অসীমের : সম্ভোগ কর
নির্মাণ কর

নিজ পরিচয় দেয়েনি তো রাজা : অপেক্ষা কর
অচেনা রাখ
পরিচয় পেয়ে চেতনে চমকে : পূজন কর
পারণা কর

মেষ শাবকটি রেখে দিও শেষে : বলি ভোগের
বলি ভোগের
সাদা বেশে সেজে রাজন আকুল : আঁধার কর
আরম্ভ কর
আঁধার কর
আরম্ভ কর