গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

১৪ আগ, ২০১৪

পাপিয়া গাঙ্গুলী

0 কমেন্টস্


বাড়ি 


ভোরের সূর্য্য আরমোড়া ভেঙ্গে , এসে বসেছে ঝোলা বারান্দায় | আলসে সকালের সাথে খুনসুটি| চড়াইটা ঘাস্ কুটো  খুজতে বেড়িয়ে , হয়রান !প্লাস্টিকের পৃথিবী| পিপড়ের চঞ্চল পায়ে , প্রাত্যহিক সকালের ছুটোছুটি | ওপরের রমা কথা না শুনে ,আবার-  ভেজা কাপড়টা লম্বা ঝুলিয়েছে |তুলসী গাছে ছোয়া লাগে |  গাছটা একদিন মরবে , ওর মায়ের মত | পাঁচ বছর আগেও ,নিচের ওই গাড়ি পার্কিং এর জায়গাটাকে তুলসী তলা বলাহত | সন্ধ্য়ে প্রদীপ জ্বলত | রোদ  এসে  বসত পেল্লায় ছাদে-  বড়ি ,আচার,ধনেখালি শাড়ি শুকোতে| এই সাত ঘড়ের ফ্ল্যাট বাড়ির অতীত  ছিল  ,সাত মহলা বাড়ি | আঙ্গুলের ফাঁক দিয়ে পলাতক সময় |নিজেদের পরিসরে  বন্ধ করা জীবন আজ  | আজ উপোস করব | পৈত্রিক বাড়ির মৃত্যু শোকে, ফ্ল্যাট বাড়ির জন্মদিনে৷

মৌ দাশগুপ্তা

0 কমেন্টস্

চর্বিতচর্বণ


গোপাললাল রোডে আমরা যে ভাড়া বাড়ীতে থাকি তাতে সাকুল্যে বারোটি ঘর। একতলায় থাকেন বাড়ীর মালিকরা। জ্যাঠতুতো খুড়তুতো দুইভাই। রমেন সাধু আর উপেন সাধু। ওপরে পাঁচটি ঘরে দুই ভাড়াটে। সম্পর্কেভাই বটে তবে অহিনকুল সম্পর্কটাই বেশী মানানসই বলা যায়। রমেন সাধু লোকটি বেশ প্যাঁচালো,  বদরাগী গোছের। সিড়িঙ্গি চেহারা, সন্দেহসঙ্কুল চোখ।কাশীপুর গানসেল ফ্যাক্টরীতে কাজ করে। ঘরে বউ  বেশ শাসন ত্রাসনে রাখে। বা্চাকাচ্চা নেই। ছোট উপেন সাধু গোলগাল হাসিমুখ ভালোমানুষ চেহারা, বাড়ীর একতলাতেই ছাপাখানা চালায়। স্ত্রৈনমানুষ বললেও কমই বলা হয়। বউটি আবার বেশ রসময়ী। ঘরের কাজ কর্তাই সামাল দেন, থাকার মধ্যে দুটি যমজ মেয়ে, মামাবাড়ীতে দিদিমা কাছে থাকে তাই চাপও নেই অতএব, কত্রী ঠাকরুন মুখে দোক্তা ঠুসে আলতাপায়ে এর তার বাড়ী ঘুরে,সিনেমা দেখে উইন্ডো শপিং করে আরামসে দিন কাটায়।বর বউ দুটিতে বড় ভাব।

সেদিন ঘরবার করছি,কিছুতেই আমার বরের সাথে মোবাইলে যোগাোগ করতে পারছিন।টানা সুইচড অফ দেখাচ্ছে, তারমানে বাবু মিটিংয়ে বসেছেন। ঘরের বিবিটির কথা আর মনে নেই।কি যে করি।তখনই শুনি নীচে দুইভাইয়ের মধ্যে তুমুল গোলমাল। এক বাড়ির কর্তা বলছে আর এক বাড়ির কর্তাকে,
-    ''তোর বউটাই যত নষ্টের গোড়া। সারাদিন বাইরে বাইরে এতো ঘোরাঘুরি কিসের? বাড়ীর বউ ঘোমটা টেনে সোয়ামীর সেবা করবে ঘর সামলাবে তা নয়, ধিঙ্গি মাগী সেজেগুজে পরপুরুষের গা ঘেঁষে বসে সিনেমা দেখছে, বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছে,
'তার উত্তরে নিরীহভাবে অন্য কর্তা বলল
-   ''তোর তাতে কি? ও সাজগোজের পয়সা চাইতে তোর কাছে তো যায় না।
-   সে আসবেও না, আমি পুরুষমানুষ, বুঝলি?  পুরুষমানুষ,  তোর মত মাউগ্যা নই, মাগচাটা কোথাকার।
-   মুখ সামলে কথা বলবি বলে দিলাম, পুরুষমানুষ! তাও যদি বাপ হবার ক্ষ্যামতা রাখতি।
-   কি যত বড় মুখ নয় তত বড় কথা ? বউ সামলানোর ক্ষ্যামতা নেই বাপ হওয়া দেখাচ্ছিস হারামজাদা? অতো ক্ষ্যামতা তো বউকে একদিনের জন্য হলেও ঘরে আটকে দেখা দেখি।

ঝগড়া চলতেই থাকে, রোজকার মত। বুঝলাম উপেনের বউয়ের দেখাদেখি আবার রমেনের বউ কোথাও যাবার কথা বলেছিল বরকে, তার থেকেই এ তুলকালাম। আমার সহানুভূতিটা উপেনের দিকেই যায়। বাড়ীর বয়স্কা বউমানুষের এত বারমুখো হওয়া কিসের? এতে সংসার টেঁকে? বরঞ্চ উপনের বউটার মধ্যে বেশ লক্ষ্মীমন্ত ভাব রয়েছে। ঘরোয়া, সুশীলা।

কিন্তু এই ফাঁকে আটকে আর বেশী দেরী করা যাবেনা। আমি সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসি। কিটিপার্টির দেরী হয়ে যাচ্ছে। বান্ধবীরা সবাই এসে গেছে বোধহয়,সুরঞ্জন এই কিটি পার্টি ফার্টি পছন্দ করেনা বলে যেতে বারন করে, আজও অফিস যাবার আগে প্রস্থ কথা কাটাকাটি হয়ে গেছে আমাদের মধ্যে। কিন্তু ও নিজে সারাটাদিন অফিসে ব্যস্ত, কোনদিনই ওর ফেরার কোন ঠিকঠিকানা থাকে না, ছেলেটাও হস্টেলে, ছুটিছাটাতে কালেভদ্রে বাড়ী আসে, আমার সময়টা কাটে কি করে? অতএব সুরঞ্জনের বারনটাও আর মানা হয়না আমার।

কাশীনাথ গুঁই

0 কমেন্টস্


কখনো মেঘ


সকালে বাজারের পথে একটা জটলায় আটকে পড়লাম। একটা বাচ্চা কচুরীর দোকানে খাওয়ার পর পালাতে গিয়ে ধরা পড়েছে তাই জটলা।বাচ্চাটা এপাড়ায় অপরিচিত, দানসাগর নাহলেও দোকানের পয়সাটা দিয়ে সরিয়ে নিলাম ওকে।

বাজারের থলিটা ওর হাতে ধরিয়ে বাজারটা সেরে ওর কথা জানতে চাইলাম।ওর মা ভোরে রেললাইনে গলা দিয়েছে ওকে ঠেলে ফেলে দিয়ে-রেলপুলিশ দায় কমাতে ওকে স্রেফ বাজারের পথে ভাগিয়ে আনক্লেমড বডি চালান করেছে মর্গে। ওর বাবা বছরখানেক আগে ক্ষেতের কাজে সাপের ছোবলে মরার পরে মায়ের বিড়িবাঁধা আর কাগজের ঠোঙার মজুরিতে চলছিল কোনক্রমে। কদিন জ্বরে পড়ে অনাহারে কাটিয়ে বেচারী সহজ রাস্তার খোঁজে রেললাইনে নিজেকে বাঁচিয়ে এই বছর পাঁচেকের রিমিকে অদৃষ্টের হাতে ছেড়ে নিশ্চিন্ত হল।
অগত্যা ওকে বাড়ীতে নিয়ে আসা ছাড়া উপায় ছিল না। সংক্ষেপে বুঝিয়ে গিন্নীর হাতে ওকে ছেড়ে স্নানে গেলাম। অফিস ফেরতা কিছু জামাকাপড়ও আনলাম। সহকর্মীদের নানারকম প্রস্তাব গিন্নীর সাথে আলোচনা করে ওকে নিজেদের মত মানুষ করার সিদ্ধান্ত নিলেও থানায় জাননোর কথা ভাবলাম।
আজ এতবছর পর ভাবি, ভাগ্যিস সেদিন সাহস করে সিদ্ধান্তটা নিয়েছিলাম।আমার প্রতিষ্ঠিত দুইছেলে কর্মসূত্রে বিদেশে, ঘরসংসারও সেখানে, দু’ তিনবছর পর কালেভদ্রে দেখা হয় কি হয়না।তা বলে আমাদের স্বার্থ দেখতে গিয়ে ওদের ভবিষ্যতটাতো আর জলাঞ্জলি দিতে পারিনা।রিমি এখন স্কুলে পড়ায়, বিয়ে থা করেছে, এক মেয়ের মা।কিংবা হয়তো আমাদেরও মা, আমাদের দুই বুড়োবুড়ির শেষ সম্বল ঐ রিমিই।